
নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার লরি সড়কের পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে বাড়ির বাথরুমসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একটি প্রাইভেটকারের গ্লাসও। দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকট শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। দুর্ঘটনায় ট্যাংকারের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) ভোর ৪টার পর যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত গ্যাসবাহী ট্যাংকারটির নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ঢং-৬১-০৩৯৮।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতবাড়িতে ট্যাংকার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় ট্যাংকারটি সড়কের পাশের স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবুর রহমানের বসতবাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ট্যাংকারের ধাক্কায় বাড়ির বাথরুমের দেয়াল ও স্থাপনার একটি অংশ ভেঙে যায় এবং ট্যাংকারটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বাড়ির অপর একটি অংশেও আঘাত লাগে।
বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে পরিবারের
বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সবাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাইরে এসে তাঁরা দেখতে পান, একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার তাঁদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় বাথরুমসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এত বড় দুর্ঘটনার পরও পরিবারের কারও কোনো ক্ষতি না হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
প্রাইভেটকারের গ্লাস ভাঙল
প্রাইভেটকারের মালিক কওসার জানান, ট্যাংকারের ধাক্কায় তাঁর বাড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙে গেছে। গভীর রাতে হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল
স্থানীয় ব্যবসায়ী রায়ান টেলার্সের মালিক কবির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ায় বাথরুমের দেয়াল ও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। ট্যাংকারটি গ্যাসবাহী হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারত। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী ও গ্যাসবাহী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাস্থলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের বাড়িটির বাথরুমের দেয়াল ও স্থাপনার একটি অংশ ভেঙে গেছে। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ভাঙা ইট ও নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। ট্যাংকারের ধাক্কায় বাড়ির অপর অংশেও ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে। পাশেই ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি
স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাসবাহী ট্যাংকারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের বক্তব্য
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, “খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাচ্ছি।”